Last update
Loading...

রাঙ্গামাটিতে নিহত দুই সেনা কর্মকর্তার দাফন সম্পন্ন

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় নিহত সেনাবাহিনীর মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক ও ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্তের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বনানী সামরিক কবরস্থানে সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন করা হয়। সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল ষ্টাফ (সিজিএস) মেজর জেনারেল মো: নাজিম উদ্দীনসহ মরহুমদ্বয়ের আত্মীয়-স্বজন ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৪৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি বিবাহিত এবং পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলের জনক। ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ৬৪ বিএমএ লং কোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি সদ্য বিবাহিত।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় গত মঙ্গলবার দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়। রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রাঙ্গামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন আনুমানিক সকাল ১১টায় উদ্ধার কার্যস্থল সংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারীদলের উপর ধসে পড়লে তারা মূল সড়ক হতে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। পরবর্তীতে একই ক্যাম্প থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজন সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ জন সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

যাদের হাতে রাখা দরকার তাদের জন্য কাজ করছে সরকার

ক্ষমতায় থাকতে যাদের হাতে রাখা দরকার সরকার তাদের জন্য কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, এই সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তাও করে না। তারা জানে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। ক্ষমতায় থাকার তারা কতগুলো কৌশল ঠিক করেছে। যাদেরকে হাতে রাখা দরকার তাদেরকে অবাধ সুযোগ দিচ্ছে, বলছে ‘নিজেরা করো’। প্রয়োজনে সেখানে যেটা সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সেটা তারা করে দিচ্ছে। যারা তাদের নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে পারবে তাদের জন্যই কাজ করছে। রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তরাঁয় লেবার পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনে জেতা যাদের নিয়ে সম্ভব, যারা তাদের জিতিয়ে দিতে পারবেন, তাদের জন্য কাজ করছে সরকার। সাধারণ মানুষের এখানে ভোটের কোনো দাম নেই। সেজন্য আমাদের দাবি দেশে ভোট হতে হবে, গত ১০ বছর দেশে ভোট হয়নি। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল যাতে ভোটে অংশ নিতে পারে, সেজন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর ভোটটা যাতে সকল মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দিতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রয়োজন একটা নির্বাচনকালীন সরকার। যে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশেই এখন দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত হচ্ছে। বিশেষ করে হাইওয়ের যে বেহাল অবস্থা, রাস্তা ছবি পত্র-পত্রিকায় আপনারা দেখেছেন। হাইওয়ের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়বে। এই সরকারের আমলেই আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি মৃত্যু আর মৃত্যু, মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে। অথচ এই সরকার মহাআনন্দে আছে। তারা দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন, তারা আকাশে উড়েন, তারা মাটির কথা চিন্তাও করেন না, মাটির দিকে দেখেনও না, কী অবস্থায় আছে দেশ? খালেদা জিয়া বলেন, সরকার অনেক উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু রাস্তা-ঘাটের যে অবস্থা, গ্রামে-গঞ্জের রাস্তা-ঘাটের যে অবস্থা, সেটা দেখে কী বুঝা যায় উন্নয়ন হয়েছে দেশে? উন্নয়নের সুফল কী দেশের মানুষের কাছে পৌঁছেছে? যদি উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতো তাহলে দেশের মানুষ দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারতো। শান্তিতে থাকতো, আনন্দে থাকতো। এ সময় তিনি রমজানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊধ্বর্বগতি নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজেরা ভালো আছে, খাচ্ছে, আরো যতটুকু রিলিফ আছে তা চুরি করছে, লুটপাট করছে, ব্যাংকের টাকা নিচ্ছে। এবার বাজেটে সব রকমের কর বসিয়েছে, ভ্যাট বসিয়েছে এবং মুদি দোকানেও ভ্যাট বসিয়েছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম কী দেশের এই অবস্থা দেখতে। এক পরিবার সমস্ত কিছু দখল করে নেবে, কেউ গণভবন দখল করে নেবে, অমুক বাড়ি দখল করবে, তমুক করবে? তাদের সব নিরাপত্তা দিতে হবে। শুধু তারাই নিরাপত্তা পাবে, সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই।  গুম-খুন হচ্ছে, যাকে তাকে গুম করে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে মানুষ পরিবর্তন চায়, এদেশের মানুষ আজকে জালেমদের কাছ থেকে মুক্তি চায়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমেদ, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। ইফতারে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শাহজাহান ওমর, মীর মো. নাসিরউদ্দিন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, মে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাবিথ আউয়াল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, জামায়াতের মাওলানা আবদুল হালিম, জাগপার রেহানা প্রধান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,  এনডিপির খোন্দকার গোলাম মুর্তজা, মুসলিম লীগের কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, খেলাফত মজলিশের শেখ গোলাম আজগর, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদউদ্দিন, ফারুক রহমান, এমদাদুল হক চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম রাজু, মাহবুবুর রহমান, শামসুদ্দিন পারভেজ, উম্মে হাবিবা রহমানসহ সিনিয়র নেতারা ইফতারে অংশ নেন।